লেখক, ভাষাবিদ, ভ্রমণসাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও মানবতাবাদী চিন্তক
"সৈয়দ মুজতবা আলী স্মৃতি পরিষদ" হল বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক, বহুভাষাবিদ, ভ্রমণসাহিত্যিক ও মানবতাবাদী চিন্তক সৈয়দ মুজতবা আলীর স্মৃতি সংরক্ষণ ও তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রচার-প্রসারের উদ্দেশ্যে গঠিত একটি অলাভজনক সাংস্কৃতিক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
আমরা বিশ্বাস করি যে সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনা ও জীবনদর্শন আজও সমান প্রাসঙ্গিক। তাঁর হাস্যরসাত্মক কিন্তু গভীর সাহিত্যকর্ম প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করে আসছে। "সৈয়দ মুজতবা আলী স্মৃতি পরিষদ" হল বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লেখক, বহুভাষাবিদ, ভ্রমণসাহিত্যিক ও মানবতাবাদী চিন্তক সৈয়দ মুজতবা আলীর স্মৃতি সংরক্ষণ ও তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রচার-প্রসারের উদ্দেশ্যে গঠিত। সৈয়দ মুজতবা আলী স্মৃতি পরিষদ একটি অলাভজনক সাংস্কৃতিক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। কালের প্রবাহে তাঁর ব্যবহৃত সামগ্রী, পাণ্ডুলিপি, আলোকচিত্র, স্মারক এবং জীবনস্মৃতির বহু মূল্যবান উপাদান হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই তাঁর পৈতৃক নিবাস হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার উত্তরসুরে পৈতৃক ভিটায় "ড. সৈয়দ মুজতবা আলী স্মৃতি জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র" প্রতিষ্ঠা আজ সময়ের দাবি। এই জাদুঘর শুধু একজন মহান সাহিত্যিকের স্মৃতি সংরক্ষণের কেন্দ্র হবে না; বরং এটি হবে সাহিত্য, গবেষণা, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার এক জাতীয় প্রতিষ্ঠান, যেখানে নতুন প্রজন্ম ও দেশ-বিদেশের পর্যটকদের পরিচিত করবে বাংলাদেশের এক বিশ্বমানবের জীবন, কর্ম ও আদর্শের সঙ্গে।
সৈয়দ মুজতবা আলীর সাহিত্য, জীবনী ও দর্শনকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষে হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার উত্তরসুরে তার পৈতৃক ভিটায় ড. সৈয়দ মুজতবা আলী স্মৃতি জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র" প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
একটি সমৃদ্ধ ডিজিটাল আর্কাইভ ও গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাঁর কর্মকে অমর রাখতে ড. সৈয়দ মুজতবা আলী স্মৃতি জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উত্তরসুর,বাহুবল,হবিগঞ্জ"।
তাঁর দুর্লভ পাণ্ডুলিপি, চিঠিপত্র ও ব্যক্তিগত দলিলাদি ডিজিটাল আকারে সংরক্ষণে কাজ করবে ড. সৈয়দ মুজতবা আলী স্মৃতি জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উত্তরসুর,বাহুবল,হবিগঞ্জ।
তাঁর জীবন ও কর্মের উপর গবেষণাকে উৎসাহিত করা ও বৃত্তি প্রদান।
সৈয়দ মুজতবা আলী (১৩ সেপ্টেম্বর ১৯০৪ — ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪) ছিলেন বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য প্রতিভা। তিনি একাধারে লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, ভ্রমণসাহিত্যিক, গবেষক ও বহুভাষাবিদ ছিলেন। বাংলাদেশ, ভারত, জার্মানি, আফগানিস্তান ও মিশরে জীবনের বিভিন্ন পর্বে বাস করা এই অসাধারণ ব্যক্তিত্ব বাংলা সাহিত্যে "রম্যরচনা" ধারাটিকে বিশেষভাবে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর হাস্যরসাত্মক, তথ্যসমৃদ্ধ ও জীবনঘনিষ্ঠ লেখা পাঠকহৃদয়ে চিরকাল বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। সৈয়দ মুজতবা আলী ১৩ই সেপ্টেম্বর ১৯০৪ সালে বৃহত্তর সিলেটের এক খ্যাতিমান তারকা সমৃদ্ধ বাঙালি মুসলিম সৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা খান বাহাদুর সৈয়দ সিকান্দার আলী একজন ডিস্ট্রিক সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন। তাঁর পৈতৃক পরিবার হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার উত্তরসূর গ্রামের খান্দাকার বাড়ির অধিবাসী।
সৈয়দ মুজতবা আলী ১৯০৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ ভারতের পিতার তৎকালীন কর্মস্থল করিমগঞ্জে। তিনি একটি ঐতিহ্যবাহী বাঙালি মুসলিম সৈয়দ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা খান বাহাদুর সাহিত্যরত্ন সৈয়দ সিকন্দর আলী । মাতার নাম আমাতুল মান্নান খাতুন। তাঁর পৈতৃক পরিবার হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার উত্তরসুর গ্রামের খান্দাকার বাড়ি । তিন ভাইয়ের মধ্যে মুজতবা ছিলেন সবার ছোট। তাঁর বড় ভাই সৈয়দ মুরতজা আলীও ছিলেন একজন প্রখ্যাত লেখক। এই পরিবারে বহু গুণীজন জন্মগ্রহণ করেন। নিজের বংশ ও জন্মভূমি সম্পর্কে তিনি গর্বভরে লিখেছিলেন- “বস্তুত পরিবার আমার খান্দানী। আমাদের পূর্বপুরুষ শাহ সৈয়দ আহমদ মোতাওয়াক্কিল (র.)-এর দরগা এখনো তরফ পরগনার (হবিগঞ্জের প্রাচীন নাম) উত্তরসুরে আমাদের ভদ্রাসনে বিরাজিত। জাগতিক শিক্ষা-দীক্ষায় কিন্তু এ বংশের লোকেরা কম নয়; মোটামুটি দেশখ্যাত।" এই বক্তব্যে যেমন তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্যের পরিচয় পাওয়া যায়, তেমনি প্রতিফলিত হয় উত্তরসুরের দীর্ঘদিনের জ্ঞানচর্চা, শিক্ষা ও সংস্কৃতির উত্তরাধিকার। উত্তরসুর শুধু ড. সৈয়দ মুজতবা আলীর জন্মস্থানই নয়; এটি বহু জাতীয় মনীষার স্মৃতিধন্য এক ঐতিহাসিক রত্নভূমি। ইতিহাসের পাতায় শত বছরের ঐতিহ্যের এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম উত্তরসুর। বৃহত্তর সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার এই ঐতিহ্যমণ্ডিত গ্রামে যুগে যুগে জন্ম নিয়েছেন অসংখ্য শিল্প-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক মনীষা। এই গ্রামে আরো জন্মগ্রহণ করেছেন খান বাহাদুর সাহিত্যরত্ন সৈয়দ সিকন্দর আলী; জাতীয় ইতিহাসবেত্তা, গবেষক এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি সৈয়দ মুর্তাজা আলী; আজাদি সংগ্রামী পীর সৈয়দ আব্দুল হামিদ রহ., বাংলাদেশের প্রথম ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও খ্যাতিমান সাংবাদিক এস. এম. আলী; ষাটের দশকে বাংলা সাহিত্যের খ্যাতিমান মহিলা কবি সৈয়দা হাবিবুন্নেসা খাতুন: ইতিহাসবিদ 'তরফরত্ন' সৈয়দ আব্দুল্লাহ সহ বহু গুণী, বরেণ্য জাতীয় মনীষা, সাহিত্যিক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।
সৈয়দ মুজতবা আলী সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন সম্পন্ন করেন। ১৯১৯ সালে সিলেট সফরে গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। বক্তব্য দিয়েছিলেন স্থানীয় ছাত্রদের উদ্দেশে। বিষয় ছিল ‘আকাঙ্ক্ষা’। কিশোর মুজতবা চিঠি লিখলেন বিশ্বকবিকে। জানতে চাইলেন, আকাঙ্ক্ষা উচ্চ করতে গেলে কী করা প্রয়োজন। এক সপ্তাহ পরেই আসমানি রঙের খামে জবাব পেলেন, ‘আকাঙ্ক্ষা উচ্চ করিতে হইবে, এই কথাটির মোটামুটি অর্থ এই—স্বার্থই যেন মানুষের কাম্য না হয়। দেশের মঙ্গলের জন্য ও জনসেবার জন্য স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ কামনাই মানুষকে কল্যাণের পথে নিয়ে যায়। তোমার পক্ষে কী করা উচিত তা এত দূর থেকে বলে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে তোমার অন্তরের শুভেচ্ছাই তোমাকে কল্যাণের পথে নিয়ে যাবে।’ তখন মুজতবা আলী তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। রবীন্দ্রনাথের সেই সান্নিধ্য তাঁর লেখার উপর গভীর প্রভাব ফেলে। ১৯২১ সালে তিনি শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯২৬ সালে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বিশ্বভারতীর প্রথম স্নাতকদের অন্যতম। এরপর তিনি অল্পকাল আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন।
১৯২৯ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত তিনি উইলহেলম হামবোল্ট বৃত্তি নিয়ে জার্মানিতে যান এবং বার্লিন ও পরে বন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। বন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বে "খোজাদের উৎপত্তি ও তাদের আজকের ধর্মীয় জীবন" বিষয়ক অভিসন্দর্ভের জন্য পিএইচডি অর্জন করেন (১৯৩২)। ১৯৩৪-৩৫ সালে তিনি কায়রোর আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়াশোনা করেন।
সৈয়দ মুজতবা আলীর কর্মজীবন ছিল বৈচিত্র্যময়। ১৯২৭ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত তিনি কাবুলের কৃষি মহাবিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। ১৯৩৬ থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত বরোদার মহারাজা সায়াজিরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ১৯৪৯ সালে তিনি বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ হন।
ভারতে ফেরার পর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে (১৯৫০) সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য কাজ করেন। এরপর তিনি ভারতীয় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক পরিষদের সম্পাদক এবং তার আরবি সাময়িকী "সাকাফাতুল হিন্দ"-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫২ থেকে ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তিনি আকাশবাণীর নয়াদিল্লি, কটক ও পাটনা কেন্দ্রে কাজ করেন। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে জার্মান ভাষা ও পরে ইসলামী সংস্কৃতির অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সৈয়দ মুজতবা আলী বাংলা সাহিত্যে "রম্যরচনা" ধারার পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃত। নূরুল মোমেন ও বিনয় মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তিনি এই বিশেষ ধারার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা-নির্ভর, রসিক ও তথ্যসমৃদ্ধ এই লেখার ধরন পাঠকমহলে অসাধারণ জনপ্রিয়তা পায়।
তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থ "দেশে বিদেশে" (১৯৪৯) কাবুলে তাঁর অধ্যাপনার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রচিত একটি অসাধারণ ভ্রমণকাহিনি। "পঞ্চতন্ত্র" ইউরোপ, কায়রো ও বরোদায় কাটানো দিনগুলির বিভিন্ন চিন্তা ও গল্পের সংকলন। তাঁর লেখার ভান্ডারে উপন্যাস, গল্পসংগ্রহ, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি সহ বিশটিরও বেশি গ্রন্থ রয়েছে। তাঁর রচনা বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পাঠ্যক্রমের অংশ।
সৈয়দ মুজতবা আলী ছিলেন একজন অসাধারণ বহুভাষাবিদ। তাঁর মাতৃভাষা ছিল বাংলা ও সিলেটি। কিন্তু তিনি আরও ২২টি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর এই ভাষাজ্ঞান তাঁর সাহিত্যকর্মকে করেছে আরও সমৃদ্ধ ও বহুমাত্রিক।
ভারত বিভাগের পর সৈয়দ মুজতবা আলী পূর্ব পাকিস্তানে যান। ১৯৪৭ সালের ৩০ নভেম্বর সিলেট কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদে তিনি পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার দাবি তোলা প্রথম ব্যক্তিদের একজন।
তিনি পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় ভাষা হিসেবে বাংলার পক্ষে একজন সক্রিয় কর্মী ও সমর্থক ছিলেন। ১৯৪৮ সালে বগুড়ার আজিজুল হক কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালে তিনি "পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা" শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লেখেন যা কলকাতার "চতুরঙ্গ" পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পশ্চিম পাকিস্তান সরকার এই প্রবন্ধের জন্য তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চায়। তিনি পদত্যাগ করে ভারতে চলে যান। ১৯৪৯ সালের আগস্টে তিনি এক বন্ধুর সংকেতে ভারতে ফিরে আসেন কারণ পাকিস্তান সরকার তাঁকে গ্রেফতার করার পরিকল্পনা করেছিল।
সাবেক অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিথের বিবরণ অনুযায়ী, বাংলা ভাষার পক্ষে সোচ্চার সমর্থনের জন্য পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ তাঁকে গ্রেফতার করতে চেয়েছিল।
সৈয়দ মুজতবা আলীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকসমূহ
তাঁর সম্পর্কে স্মৃতি, উপাখ্যান ও ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ
১৯১৯ সালে মাত্র পনেরো বছর বয়সে যখন রবীন্দ্রনাথ সিলেট সফরে আসেন, তরুণ মুজতবার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। গুরুদেবের সান্নিধ্য তাঁর মনে এক অমোঘ প্রভাব ফেলে এবং পরবর্তীতে তিনি শান্তিনিকেতনে পাড়ি জমান। বিশ্বভারতীর সেই উন্মুক্ত পরিবেশে শিক্ষাগ্রহণ তাঁকে একজন বহুমাত্রিক লেখক হিসেবে গড়ে তোলে।
আরও পড়ুনআফগানিস্তানে অধ্যাপনার সময় মুজতবা আলী সেখানকার মানুষ, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে মিশে যান। আফগান গৃহযুদ্ধের সময় তিনি তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদ করেন এবং এই অসাধারণ অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে "দেশে বিদেশে" গ্রন্থে অমর হয়ে যায়।
আরও পড়ুনবগুড়ার অধ্যক্ষ পদে থেকে বাংলা ভাষার পক্ষে প্রবন্ধ লিখে তিনি পাকিস্তান সরকারের রোষের মুখে পড়েন। পদত্যাগ করে দেশ ছাড়লেও তাঁর সেই সাহসিকতা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। তিনি ছিলেন ভাষা আন্দোলনের এক নীরব কিন্তু দৃঢ় যোদ্ধা।
আরও পড়ুনতাঁর পুত্র সৈয়দ মোশাররফ আলী ফিরোজ লিখেছেন পিতার অসাধারণ রসিকতা ও হাস্যরসের কথা। সাহিত্য আড্ডায় তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল অফুরন্ত রস, জ্ঞান আর জীবনের আলো। তাঁর প্রতিটি কথাই হয়ে উঠত এক একটি জীবন্ত গল্পের উৎস।
আরও পড়ুনপনেরোটিরও বেশি ভাষায় পণ্ডিত এই মানুষটি যেকোনো দেশে গেলেই সেই দেশের ভাষায় কথা বলতে পারতেন। জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে কায়রোর আল-আজহার পর্যন্ত সর্বত্র তাঁর ভাষাজ্ঞান সহকর্মী ও ছাত্রদের মুগ্ধ করত।
আরও পড়ুন১৯৭২ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তিনি কলকাতা ছেড়ে ঢাকায় পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। জীবনের শেষ দুই বছর তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে কাটান। ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি এই মহান সাহিত্যিক চিরবিদায় নেন।
আরও পড়ুনসৈয়দ মুজতবা আলীর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম
কাবুলে অধ্যাপনার অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে রচিত বাংলা সাহিত্যের সেরা ভ্রমণগ্রন্থগুলির একটি। আফগানিস্তানের মানুষ, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির অসাধারণ চিত্রণ।
ইউরোপ, কায়রো ও বরোদায় কাটানো দিনগুলির বিভিন্ন চিন্তা ও গল্পের সংকলন। 'দেশ' পত্রিকায় প্রকাশিত লেখার সমাহার।
পার্সি ভাষায় "শবনম" অর্থ শিশির। ভালোবাসা, বিচ্ছেদ ও জীবনের গভীর অনুভূতির এক কাব্যিক উপন্যাস।
হাস্যরস ও জীবনদর্শনের অপূর্ব মিশ্রণে রচিত একটি অনন্য গল্পসংগ্রহ। সাধারণ মানুষের অসাধারণ জীবনের চিত্র।
আরবি ভাষায় "মুসাফির" অর্থ পথিক বা ভ্রমণকারী। বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির সমৃদ্ধ বর্ণনা।
জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতি ও অভিজ্ঞতার আলোকে রচিত হাস্যরসাত্মক ও তাৎপর্যপূর্ণ রচনার সমাহার।
সৈয়দ মুজতবা আলীর দুর্লভ ঐতিহাসিক সম্পদ সংরক্ষণ
তাঁর নিজের হস্তাক্ষরে লেখা মূল পাণ্ডুলিপির ডিজিটাল সংরক্ষণ ও গবেষণার সুবিধা
বিখ্যাত সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে তাঁর মূল্যবান পত্রবিনিময়ের সংগ্রহ
তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবহার্য বিভিন্ন সামগ্রী যা তাঁর জীবনযাপনের স্মৃতি বহন করে
তাঁর শিক্ষাগত সনদ, নিয়োগপত্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিলপত্র
জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তোলা দুর্লভ আলোকচিত্রের ডিজিটাল আর্কাইভ
যেসব পত্রিকায় তাঁর লেখা প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল সেগুলির মূল কপি ও ডিজিটাল সংস্করণ
এই অ্যালবামে সৈয়দ মুজতবা আলীর জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের স্মৃতিচিহ্নস্বরূপ ছবি সংগৃহীত হয়েছে। ড. সৈয়দ মুজতবা আলী স্মৃতি জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উত্তরসুর,বাহুবল,হবিগঞ্জ
"দেশে বিদেশে" গ্রন্থের জন্য প্রাপ্ত এই পুরস্কার তাঁকে সাহিত্যজগতে বিশেষ স্বীকৃতি এনে দেয়।
আনন্দবাজার গ্রুপ কর্তৃক প্রদত্ত মর্যাদাপূর্ণ আনন্দ পুরস্কারে ভূষিত। বাংলা সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি।
বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত।
যাঁরা এই মহৎ উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন
পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রম ও অনুষ্ঠানের আলোকচিত্র
সৈয়দ মুজতবা আলীর স্মৃতি ও সাহিত্যকে টিকিয়ে রাখার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সৈয়দ মুজতবা আলীর জীবন, কর্ম ও দর্শনের উপর গভীর গবেষণার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা। বৃত্তি প্রদান ও গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করা হবে।
পরিকল্পনাধীনবিদ্যমান ডিজিটাল আর্কাইভকে আরও সমৃদ্ধ করা। হাতে লেখা পাণ্ডুলিপি, দুর্লভ ছবি, চিঠিপত্র ও ঐতিহাসিক দলিলের ডিজিটাইজেশন সম্পন্ন করা।
চলমানপ্রতি বছর ১৩ সেপ্টেম্বর (জন্মদিন) উপলক্ষে একটি আন্তর্জাতিক মানের সাহিত্য সম্মেলন আয়োজন করা হবে। দেশ-বিদেশের গবেষক ও সাহিত্যিকরা অংশগ্রহণ করবেন।
পরিকল্পনাধীনসৈয়দ মুজতবা আলীর অপ্রকাশিত ও দুষ্প্রাপ্য রচনার নতুন সংস্করণ প্রকাশ। তাঁর রচনার বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ ও প্রকাশনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রাথমিক পর্যায়েসিলেটের করিমগঞ্জ ও হবিগঞ্জে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলিতে স্মৃতি জাদুঘর স্থাপন ও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনাধীনপ্রতি বছর বাংলা সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা তরুণ লেখকদের জন্য "সৈয়দ মুজতবা আলী সাহিত্য পুরস্কার" প্রবর্তনের পরিকল্পনা।
প্রস্তাবিতবই পড়া মানে শুধু কালো হরফ পড়া নয়, বই পড়া মানে একজন মানুষের চিন্তা ও অনুভূতির সঙ্গে মিলিত হওয়া।
পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ নেই, এমন কোনো মানুষ নেই, যার মধ্যে সুন্দর কিছু নেই। শুধু দেখার চোখ থাকা চাই।
ভাষা হল একটি জাতির আত্মা। ভাষাকে যে হত্যা করে, সে একটি জাতির আত্মাকেই হত্যা করে।
জ্ঞান অর্জনের জন্য সুদূর চীনে যাও — কিন্তু মাতৃভাষাকে কখনো ভুলিও না।
মানুষের সঙ্গে মিশলে মানুষ বড় হয়, একাকীত্বে মানুষ হয়তো গভীর হয় — কিন্তু প্রসারিত হয় না।
আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন, আপনার মতামত ও পরামর্শ জানান
আমরা সৈয়দ মুজতবা আলীর স্মৃতি সংরক্ষণ ও তাঁর সাহিত্যকর্মের প্রচার-প্রসারে নিবেদিত। আপনার যেকোনো প্রশ্ন, পরামর্শ বা সহযোগিতার প্রস্তাব নিয়ে যোগাযোগ করুন।