সৈয়দ মুজতবা আলী মেমরিয়াল মিউজিয়াম
স্মৃতি কথা
হৃদয়ের কথা
স্মৃতি কথা
তাঁর সম্পর্কে স্মৃতি, উপাখ্যান ও ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ
রবীন্দ্রনাথের আশীর্বাদ
শান্তিনিকেতনের স্মৃতি, ১৯২১১৯১৯ সালে মাত্র পনেরো বছর বয়সে যখন রবীন্দ্রনাথ সিলেট সফরে আসেন, তরুণ মুজতবার সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। গুরুদেবের সান্নিধ্য তাঁর মনে এক অমোঘ প্রভাব ফেলে এবং পরবর্তীতে তিনি শান্তিনিকেতনে পাড়ি জমান। বিশ্বভারতীর সেই উন্মুক্ত পরিবেশে শিক্ষাগ্রহণ তাঁকে একজন বহুমাত্রিক লেখক হিসেবে গড়ে তোলে।
কাবুলের সেই দিনগুলি
আফগানিস্তানের স্মৃতি, ১৯২৭-২৯আফগানিস্তানে অধ্যাপনার সময় মুজতবা আলী সেখানকার মানুষ, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির সঙ্গে গভীরভাবে মিশে যান। আফগান গৃহযুদ্ধের সময় তিনি তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদ করেন এবং এই অসাধারণ অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে "দেশে বিদেশে" গ্রন্থে অমর হয়ে যায়।
ভাষার জন্য আত্মত্যাগ
ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি, ১৯৪৭-৪৯বগুড়ার অধ্যক্ষ পদে থেকে বাংলা ভাষার পক্ষে প্রবন্ধ লিখে তিনি পাকিস্তান সরকারের রোষের মুখে পড়েন। পদত্যাগ করে দেশ ছাড়লেও তাঁর সেই সাহসিকতা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। তিনি ছিলেন ভাষা আন্দোলনের এক নীরব কিন্তু দৃঢ় যোদ্ধা।
রসিকতার অনন্য পারদর্শী
সাহিত্যিক জীবনের স্মৃতিতাঁর পুত্র সৈয়দ মোশাররফ আলী ফিরোজ লিখেছেন পিতার অসাধারণ রসিকতা ও হাস্যরসের কথা। সাহিত্য আড্ডায় তাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল অফুরন্ত রস, জ্ঞান আর জীবনের আলো। তাঁর প্রতিটি কথাই হয়ে উঠত এক একটি জীবন্ত গল্পের উৎস।
বহুভাষার এক মহাজন
ভাষাচর্চার স্মৃতিপনেরোটিরও বেশি ভাষায় পণ্ডিত এই মানুষটি যেকোনো দেশে গেলেই সেই দেশের ভাষায় কথা বলতে পারতেন। জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে কায়রোর আল-আজহার পর্যন্ত সর্বত্র তাঁর ভাষাজ্ঞান সহকর্মী ও ছাত্রদের মুগ্ধ করত।
মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী প্রত্যাবর্তন
বাংলাদেশে ফেরার স্মৃতি, ১৯৭২১৯৭২ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর তিনি কলকাতা ছেড়ে ঢাকায় পরিবারের কাছে ফিরে আসেন। জীবনের শেষ দুই বছর তিনি স্বাধীন বাংলাদেশে কাটান। ১৯৭৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি এই মহান সাহিত্যিক চিরবিদায় নেন।